**জলে দ্রবণীয় ভিটামিন– ভিটামিন B কমপ্লেক্স, ভিটামিন C , ভিটামিন P
**স্নেহপদার্থ বা তেলে দ্রবণীয় ভিটামিন– ভিটামিন A, ভিটামিন D , ভিটামিন E, ভিটামিন K

👉 ভিটামিন A এর অভাবজনিত রোগের লক্ষণ: 
  i) রাতকানা পা নিকটালোপিয়া রোগ দেখা যায়।
  ii) জেরোফ্থলমিয়া দেখা দেয়।
  iii) দেহ ত্বক খসখসে হয়ে যায় এ অবস্থাকে ফ্রিনোডার্মা বলা হয় ।
  iv) স্নায়ুর অংশবিশেষের অবক্ষয় হয়ে দেখা যায়।

👉 ভিটামিন B কমপ্লেক্স এর অভাবজনিত রোগের লক্ষণ:
    i) B₁ এর অভাবে  বেরিবেরি রোগ দেখা দেয় ।
    ii) B₂ এর অভাবে ঠোঁট ও জিভে ঘা দেখা দেয় ।
    iii) B₅ এর অভাবে অন্ত্রে ঘা, চর্মরোগ দেখা দেয় ।
    iv) B₃ এর অভাবে পেলেগ্রা রোগ দেখা দেয়।
    v) B₆ এর অভাবে দেহের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় অনিদ্রা, রক্তাল্পতা, স্নায়ু                    দুর্বলতা ইত্যাদি দেখা দেয়।
     vi) B₁₂ এর অভাবে রক্তাল্পতা মুখে ঘা ও জিভে ঘা দেখা দেয়।

👉 ভিটামিন C এর অভাবজনিত রোগের লক্ষণ: 
    i) এই ভিটামিনের অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়।
    ii) অল্প ঠান্ডাতেই সর্দি হয় ।
    iii) দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত ক্ষরণ হয়।
    iv) রক্তাল্পতা দেখা দেয় ।

👉 ভিটামিন D এর অভাব জনিত রোগের লক্ষণ:
     i)  শিশুদের রিকেট রোগ হয় ।
     ii) পূর্ণ বয়স্কদের অস্টিওম্যালেশিয়া হয়।

👉 ভিটামিন E এর অভাবজনিত রোগের লক্ষণ:
     i) সিস্টিক ফাইব্রোসিস রোগ হয় , ফলে বন্ধ্যাত্বব দেখা।
     ii) মাতৃ দেহি স্তন্য দুধের ক্ষরণ কমে যায় ।
     iii) ভ্রূণের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় ।
     
👉 ভিটামিন K এর অভাব জনিত রোগের লক্ষণ:
      i) স্বাভাবিক রক্ত তঞ্চন প্রক্রিয়া ঘটে না ফলে কোন স্থান কেটে               গেলে রক্তক্ষরণ বা হেমারেজ হতে থাকে।
      ii) মাইটোকনড্রিয়া শক্তি উৎপাদন পদ্ধতি বিঘ্নিত হয় ।

                      ⏪⏩ ভিটামিন গুলির রাসায়নিক নাম ⏪⏩
📄ভিটামিন A এর রাসায়নিক নাম হল রেটিনল ।
📄ভিটামিন C এর রাসায়নিক নাম হলো অ্যাসকরবিক অ্যাসিড ।
📄ভিটামিন B₁ এর রাসায়নিক নাম থায়ামিন।
📄ভিতামিন B₂ এর রাসায়নিক নাম রাইবোফ্লাভিন।
📄ভিটামিন B₃ এর রাসায়নিক নাম নিয়াসিন ।
📄ভিটামিন B₅ এর আরেক নাম প্যানটোথেনিক অ্যাসিড ।
📄ভিটামিন B₆ এর রাসায়নিক নাম পাইরিডক্সিন ।
📄ভিটামিন B₁₂ এর রাসায়নিক নাম সায়ানোকোবালামিন ।
📄ভিটামিন D এর রাসায়নিক নাম ক্যালসিফেরল।
📄ভিটামিন E এর রাসায়নিক নাম টোকোফেরল ।
📄ভিটামিন P এর রাসায়নিক নাম সাইট্রিন ।

                  ⏪⏩     ভিটামিন গুলির উৎস    ⏪⏩

👉 ভিটামিন A এর উৎস: 
        উদ্ভিজ্জ উৎস: গাজর পাকা টমেটো বাঁধাকপি, পালংশাক টাটকা , হলদে বর্ণের ফল ইত্যাদি।

        প্রাণিজ উৎস: হাঙ্গর, কড, হ্যালিবাট মাছের যকৃতের তেল , ডিমের কুসুম , মাছ , দুধ ইত্যাদি।

👉 ভিটামিন D এর উৎস: 
      উদ্ভিজ্জ উৎস:  উদ্ভিদ ও পদার্থে এই ভিটামিন নেই বললেই চলে তবে বাঁধাকপি ও উদ্ভিজ্জ তেল এ এটি সামান্যয পরিমাণে।

      প্রাণিজ উৎস: কড,হাঙ্গর , হ্যালিবাট মাছের যকৃৎ তেল , বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ , দুধ , ডিম , মাখন ইত্যাদি । এছাড়া মানুষের ত্বকে সূর্যালোকের প্রভাবে সামান্য ভিটামিন D সংশ্লেষ হয়।


👉 ভিটামিন B 1 বা থায়ামিন এর উৎস: 
      উদ্ভিজ্জ উৎস: ঢেঁকিছাটা চাল, বিট ,গাজর, বিন ,ফুলকপি ,লেটুস শাক, ইস্ট নামক ছত্রাক ইত্যাদি।

      প্রাণীজ উৎস: ডিমের কুসুম, প্রাণীদের যকৃৎ ইত্যাদি।

👉 ভিটামিন B2 বা রাইবোফ্লাভিন এর উৎস :
        উদ্ভিজ্জ উৎস: অঙ্কুরিত বীজ ,সবুজ শাক-সবজি, শিম, সয়াবিন ,পালং শাক , মটরশুঁটি ।

         প্রাণিজ উৎস: ডিমের সাদা অংশ, দুধ, মাছ ,মাংস ,যকৃত ইত্যাদি।

👉 ভিটামিন B5 বা প্যান্টোথেনিক এসিড এর উৎস: 
       উদ্ভিজ্জ উৎস: দানা শস্য, চাল-গম এর কুড়ো, মটরশুঁটি, শিম্ব জাতীয় উদ্ভিদ , বাদাম , সবজি,  ফল , শুকনো ঈস্ট,  চিটে গুড় ইত্যাদি ।
        প্রাণীজ উৎস: মাছ, মাংস ,দুধ ,ডিম ,যকৃৎ ইত্যাদি।


👉 ভিটামিন B3 বা নিয়াসিন এর উৎস:

       উদ্ভিদ ও উৎস: চালের গুঁড়ো ,ডাল, টমেটো ,বিন ,গম ,শুকনো ইস্ট ,চিনা বাদাম, শস্য দানা ইত্যাদি।

       প্রাণীজ উৎস: দুধ , মাছ , মাংস , যকৃত, ডিম ইত্যাদি।

👉 ভিটামিন বি সিক্স বা পাইরিডক্সিন এর উৎস:
        উদ্ভিজ্জ উৎস : দানা শস্য,  সাকসবজি, শুকনো ঈস্ট, গমের ভুসি, ডাল, বাদাম, ফল ইত্যাদি।
       
        প্রাণিজ উৎস: ডিম ,মাংস ,যকৃত ,দুধ ইত্যাদি।

👉 ভিটামিন B12 বা সায়ানোকোবালামিন এর উৎস:
         উদ্ভিজ্জ উৎস : সাধারণত শাকসবজিতে থাকে না । 
স্ট্রেপ্টোমাইসিস গ্রিসিয়াস নামক ছত্রাক এ পাওয়া যায় ।

         প্রাণিজ উৎস: মাছ , মাংস , ডিম , দুধ , যকৃত।

👉 ভিটামিন C এর উৎস:
      উদ্ভিজ্জ উৎস: লেবু, আমলকী, টমেটো ,কাঁচা লঙ্কা ,আনারস, অঙ্কুরিত ছোলা এবং টক জাতীয় ফল।
   
       প্রাণিজ উৎস: ভিটামিন সি তাপ সহ্য করতে পারেনা তাই সাধারণত প্রাণিজ খাদ্যে পাওয়া যায় না।
         
  ___________________________________________________

  1.  কোন ভিটামিনের অভাবে রাতকানা রোগ হয় ভিটামিন A 
  2. কোন ভিটামিনের অভাবে স্কার্ভি রোগ হয় ভিটামিন C
  3. কোন ভিটামিনের অভাবে শিশুদের রিকেটস রোগ হয় ভিটামিন D
  4. কোন ভিটামিনের অভাবে বন্ধ্যাত্ব রোগ হয় ভিটামিন E
  5. কোন ভিটামিনের অভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ হয় ভিটামিন D 
  6. কোন ভিটামিনের অভাবে রক্ত তঞ্চন ব্যাহত হয় ভিটামিন K 
  7. কোন ভিটামিন রেটিনার রড কোষ গঠনে সহায়তা করে ভিটামিন A 
  8. কোন ভিটামিনের অভাবে বেরিবেরি রোগ হয় থায়ামিন বা ভিটামিন B1
  9. সূর্যালোকের উপস্থিতিতে আমাদের দেহে কোন ভিটামিন তৈরি হয় ভিটামিন D
  10. ভিটামিন B2 দেহের কোন অংশে সংশ্লেষিত হয় মানবদেহের অন্ত্রে।
  11. কোন ভিটামিন ইনসুলিন উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে অ্যাসকরবিক অ্যাসিড বা ভিটামিন C
  12. কোন ছত্রাক থেকে ভিটামিন বি টুয়েলভ পাওয়া যায় স্ট্রেপ্টোমাইসিস গ্রিসিয়াস ।
  13. ভিটামিন এ এর ঘাটতি হলে রক্ত নালীর মধ্যে রক্ত জমাট বেধে যায় এর ফলে কি রোগ হয় থ্রম্বসিস ।
  14. কোন ভিটামিনের অভাবে পেলেগ্রা রোগ হয় ভিটামিন B3 নিয়াসিন।
  15. ডেন্টিন ও অস্টিওয়েড গঠনে কোন ভিটামিন প্রয়োজন ভিটামিন C 
  16. আমলকিতে প্রচুর পরিমাণে কোন ভিটামিন পাওয়া যায় ভিটামিন C 
  17. ভিটামিন এ এর অ্যান্টি ভিটামিন এর নাম কি সাইট্রাল।
  18. দেহে ভিটামিনের আধিক্য কে কি বলে হাইপারভিটামিনোসিস।
  19. কাঁচা ডিমের সাদা অংশে কোন অ্যান্টি ভিটামিন থাকে অ্যাভিডিন অ্যান্টি ভিটামিন থাকে।
  20. কোন ভিটামিনের অভাবে পার্নিশিয়াস আমিনিয়া হয় সায়ানোকোবালামিন বা B12 এর অভাবে ।
  21. দেহে ভিটামিনের অনুপস্থিতিতে কে কি বলে এফবি অ্যাভিটামিনোসিস ।
  22. যেসব পদার্থ ভিটামিনের কাজে বাধা সৃষ্টি করে বা ভিটামিন কে সম্পূর্ণ ভাবে বিনষ্ট করে তাদের অ্যান্টি ভিটামিন বলে। যেমন –রাইবোফ্লাভিন তথা ভিটামিন B12 এর কার্যকারিতা বিনষ্ট করে গ্লাকটোফ্লাভিন
  23. যেসব জৈব যৌগ থেকেই প্রাণীদেহে ভিটামিন সংশ্লেষিত হয় তাদের বলা হয় প্রোভিটামিন। যেমন– বিটা ক্যারোটিন থেকে যকৃতের ভিটামিন A সংশ্লেষিত হয়।
  24. যেসব জৈব যৌগের গঠন ভিটামিন এর গঠন সদস্য কিন্তু যারা ভিটামিন এর মত গুণ সম্পন্ন নয় তাদের বলা হয় সিউডোভিটামিন বা ছদ্ম ভিটামিন । উদাহরণ– মিথাইল কোবালামিন ভিটামিন B12 এর ছদ্ম ভিটামিন।