সামাজিকীকরনের বৈশিষ্টগুলি উল্লেখ করো

সামাজিকীকনের বৈশিষ্ট :- 

১. একাধিক মাধ্যম :- 

ব্যক্তি নিজে নিজেই সামাজিকীকরণ ঘটাতে পারেনা। তাকে এই কাজে সাহায্য করে যেসকল উপাদান – সেগুলিকে বলে সামাজিকীকরণের মাধ্যম। সামাজিকীকরণের প্রধান মাধ্যমগুলি হল – পরিবার , বন্ধুগোষ্ঠী , শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান , গণমাধ্যম , রাষ্ট্র , বিভিন্ন আদর্শ – ইত্যাদি। এইসকল উপাদানগুলি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ব্যক্তির সামাজিকীকরণে সহায়তা করে। 

২. উপাদানগুলির পারস্পরিক সম্পর্ক :- 

সামাজিকীকরণের বিভিন্ন মাধ্যমগুলির মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বর্তমান। ব্যক্তি ও সামাজিকীকরণের মাধ্যমগুলি পারস্পরিক ক্রিয়া – প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে সামাজিকীকরণ ঘটায়। যেমন রাষ্ট্র যথাযথ শিক্ষার ব্যবস্থা করলে শিক্ষা ব্যক্তির চেতনার উন্নতি ঘটায়। মানুষের চেতনার উন্নতি সামাজিকীকরণে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাব বিস্তার করে। 

৩. সামাজিক প্রক্রিয়া :- 

সামাজিকীকরণ সম্পূর্ণরূপে একটি সামাজিক প্রক্রিয়া। সমাজে অবস্থানকারী ব্যক্তি সামাজিক উপাদানগুলির সঙ্গে ক্রিয়া – প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমেই সামাজিকীকরণ ঘটায়। সামাজিকীকরণের প্রতিটি উপাদান সম্পূর্ণরূপে সামাজিক। 

৪. সকল সমাজে বিদ্যমান :- 

সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া সকল সমাজেই বিদ্যমান। দেশ ও কালভেদে সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া সকল সমাজেই লক্ষ্য করা যায়। আদিম সমাজ থেকে বর্তমান সমাজ পর্যন্ত ; এমনকী , যেসকল সমাজে সভ্যতার আলো পৌঁছয়নি , সেসকল সমাজেও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। 

৫. গতিশীল প্রক্রিয়া :- 

সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়াটি একটি গতিশীল প্রক্রিয়া। সমাজের পরিবর্তন ও সময়ের বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়াটিও সমানতালে সংগঠিত হতে থাকে। 

৬. নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া :- 

সামাজিকীকরণ একটি নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া। মানবজীবন ও সমাজজীবনের কোনো স্তরেই সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া সমাপ্ত হয়না – তা প্রবহমান এবং নিরবচ্ছিন্ন। সমাজ সৃষ্টি থেকে বর্তমান সময়কাল পর্যন্ত সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া নিরন্তর সংগঠিত হয়ে চলেছে। 

৭. সামাজিকীকরণ সমাজের সকল অংশকে প্রভাবিত করে :- 

কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মধ্যেই যে সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া সংগঠিত হয় – তা কিন্তু নয়। সামাজিকীকরণ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সংগঠিত হয়। সমাজে বসবাসকারী সকলেই সামাজিকীকরণের মাধ্যমে সমাজের সঙ্গে পরিচিত হয় ও সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করে। 

৮. পরিস্থিতিভেদে তারতম্য :- 

পরিস্থিতিভেদে সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার তারতম্য লক্ষ্য করা যায়। একটি আদর্শ সমাজের ব্যক্তিবর্গের সামাজিকীকরণ ঘটে আদর্শরূপে ; অন্যদিকে , যেসকল সমাজের পরিবেশ অসামাজিক , সেসকল সমাজের ব্যক্তিবর্গের সামাজিকীকরণ ঘটে নেতিবাচকরূপে। 

৯. সমাজের পরিবর্তন :- 

সামাজিক পরিবর্তনের একটি প্রধান উপাদান হল সামাজিকীকরণ। সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যক্তিবর্গ সমাজের পরবর্তনশীল রীতিনীতির সঙ্গে অভিযোজন ঘটিয়ে সামাজিক পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করে। 

১০. মিথস্ক্রিয়া :- 

সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ব্যক্তি , সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও সমাজের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া সংগঠিত হয়। ব্যক্তি , প্রতিষ্ঠান ও সমাজের মিথস্ক্রিয়া সামাজিক পরিবর্তনকে সূচিত করে। 

পরিশেষে বলা যায় , সামাজিকীকরণ হল এমন এক প্রক্রিয়া যার দ্বারা ব্যক্তি সমাজের রীতিনীতি , প্রথা , সামাজিক আদব – কায়দা , আদর্শ , মূল্যবোধ ইত্যাদির সঙ্গে পরিচিত হয় এবং অভিযোজনের মাধ্যমে সামাজিক প্রাণীতে পরিণত হয়। সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়াটি ধারাবাহিক এবং ব্যক্তিজীবনের সর্বকালীন সঙ্গী , ব্যবহারিক সম্পর্কের অন্যতম কারক , সামাজিক কল্যাণসাধন ও শৃঙ্খলারক্ষার উদ্দীপক বিশেষ। 

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Discover more from

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading

B pharmacy 7th semester notes pdf download. Psd design dm developments north west. Yangzhou university scholarships 2024.