ভারতীয় অঙ্গরাজ্যের রাজ্যপালের ক্ষমতা ও পদমর্যাদা :-

ভারতীয় সংবিধানের ১৫৩ নং ধারানুযায়ী প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে একজন করে রাজ্যপাল প্রশাসনিক প্রধান হিসাবে অবস্থান করেন। রাজ্যপাল হলেন রাজ্য শাসন বিভাগের সর্বোচ্চ পদাধিকারী। তবে কেন্দ্রের মত রাজ্যগুলিতে সংসদীয় ব্যবস্থা প্রবর্তিত হওয়ডার জন্য তিনি হলেন নিয়মতান্ত্রিক শাসক। রাজ্যপালকে যাবতীয় কার্যে সাহায্য করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে মন্ত্রীপরিষদ বাস্তব ক্ষমতা প্রয়োগ করে। অধ্যাপক জোহারির মতে রাজ্যপাল হলেন রাজ্যে কেন্দ্রের প্রতিনিধি এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের

মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম।

ক্ষমতা :- রাজ্যপালের ক্ষমতা ও কার্যাবলীকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায় –

  1. a) শাসন সংক্রান্ত ক্ষমতা
  2. i) ভারতীয় সংবিধানে ১৫৪ নং ধারায় রাজ্যপালকে অঙ্গরাজ্যের শাসনক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়।
  3. ii) রাজ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলিতে তিনি ক্ষমতা ভোগ করেন।

(iii) প্রশাসনিক প্রধান হিসাবে রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শানুযায়ী অঙ্গরাজ্যে অন্যান্য মন্ত্রীদের নিয়োগ করে থাকেন।

  1. iv) মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শানুযায়ী মন্ত্রীপরিষদের মধ্যে দপ্তর বন্টন করেন। v) রাজ্য পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল প্রভৃতি

ব্যক্তিদের নিয়োগ ও পদচ্যুত করেন।

  1. b) আইন সংক্রান্ত ক্ষমতা –
  2. i) ভারতীয় সংবিধানে ১৬৮ নং ধারায় রাজ্যপাল হলেন রাজ্য আইনসভার অবিচ্ছেদ্য অংশ। ii) রাজ্য আইনসভার উচ্চকক্ষে তিনি শিল্প, বিজ্ঞান ইত্যাদি ক্ষেত্র থেকে কয়েকজন বিশিষ্ট

ব্যক্তিকে মনোনীত করতে পারেন। iii) রাজ্যপাল আইন সভার অধিমেশনের আহ্বান ও স্থগিত রাখতে পারেন ও প্রয়োজনে

ভেঙ্গেও দিতে পারেন। iv) রাজ্যপালের সম্মতি ছাড়া কোনও বিল আইনে রূপাস্তুভিরত হয় না।

  1. c) অর্থ- সংক্রান্ত ক্ষমতা –

1) প্রত্যেক আর্থিক বছরের জন্য রাজ্য সরকারের আনুমানিক আয়-ব্যয়ের একটি বিবরণ বা বাজেট বিধানসভায় পেশ করতে হয়।

  1. ii) রাজ্যপালের সুপারিশ ছাড়া বিধানসভায় কোনও ব্যায়ের দাবী উত্থাপন করা যায় না।
  2. d) বিচার-সংক্রান্ত ক্ষমতা –

1) রাজ্য হাইকোর্টের বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের রাজ্যপালের সঙ্গে পরামর্শ করতে হয়।

  1. ii) রাজ্য সরকারের এলাকাভুক্ত বিষয়ে অপরাধীর জন্য দন্ডিত ব্যক্তিকে রাজ্যপাল ক্ষমা প্রদর্শন করতে পারেন।
  2. e) স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা – 1) রাজ্যপাল মন্ত্রীসভার পরামর্শ ছাড়াই স্বাধীনভাবে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করেন।
  3. ii) সংবিধানের ১৬৩ নং ধারায় এই সমস্ত ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য তিনি মন্ত্রীপরিষদের কাছে জবাবদিহিতে বাধ্য নন।

iii) স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতানুযায়ী রাজ্যপাল উপজাতি অধ্যুষিত এলাকায় উন্নয়ন ও প্রশাসনিক

ব্যাপারে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারেন। iv) মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ ও মন্ত্রীসভাকে বরখাস্ত করার ক্ষেত্রেও রাজ্যপাল স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ

করতে পারেন।

রাজ্যপালের শাসনতান্ত্রিক মর্যাদা –

বর্তমান ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজ্যপালের ভূমিকাকে কেন্দ্র করে এক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এক শ্রেণীর চিন্তাবিদ মনে করেন যে, রাজ্যপাল হলেন রাজ্যের নাম সর্বস্ব শাসক প্রধান। কিন্তু অধ্যাপক মহেশ্বরীর মতে – ভারতীয় সংবিধানে রাজ্যপাল হলেন অত্যন্ত ক্ষমতাশালী ব্যক্তিত্ব । এর অন্যতম কারন হ’ল যে, সংবিধান রাজ্যপালের হাতে সমস্ত ক্ষমতা ন্যস্ত করেছে। রাজ্যপালকে পরামর্শ দানের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রীপরিষদ থাকে।

সংবিধান রাজ্যপালকে সুনির্দিষ্ট স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রদান করেছে। স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগের মধ্য দিয়ে রাজ্যপাল রাজ্য মন্ত্রীসভাকে প্রভাবিত করতে পারেন। এছাড়া রাজ্যপাল শাসনতান্ত্রিক অচলাবস্থা সম্পর্কে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতিবেদন পেশ করতে পারেন। এই প্রতিবেদনের মধ্য দিয়ে তিনি অঙ্গরাজ্যের মন্ত্রীসভাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারেন।

রাজ্যপালের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মত প্রকাশের সুযোগ থাকলেও তত্ত্বগত দিক থেকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগনের নির্বাচিত প্রতিনিধি হলেন প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী। ভারতীয় অঙ্গরাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী এবং মন্ত্রীপরিষদ হলেন জনগনের প্রতিনিধি। রাজ্য শাসনব্যবস্থায় সকল ক্ষেত্রে মন্ত্রীপরিষদকে যৌথভাবে দায়িত্বশীল করা হয়েছে। তাই রাজ্যপাল মন্ত্রীপরিষদের কথা অনুযায়ী পরিচালিত হতে বাধ্য। ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোতে রাজ্যপাল হলেন কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম।

 

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Discover more from

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading

Professional translator ⌨ english italian indonesian spanish. Lenard’s terror strikes is a fictional story with fictional characters. Piazza pio ii, pienza italy.