নির্বাচন কমিশনের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা করো ?

গণতন্ত্রকে সার্থক করে তোলার জন্য নির্বাচন যাতে মুক্ত, ন্যায্য ও পক্ষপাতহীন হয় সেই উদ্দেশ্যে ভারতীয় সংবিধান নির্বাচন পরিচালনার জন্য সবরকম প্রভাব মুক্ত একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংস্থা গঠন করেছে। এই সংস্থা “নির্বাচন কমিশন” নামে পরিচিত।

গঠন:- নির্বাচন কমিশন একজন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (Chief Election Commissioner ) এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে গঠিত হবে। এই সংখ্যা অবশ্য রাষ্ট্রপতি নির্ধারন করবে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করবেন। (৩২৪নং ধারা), ১৯৯৩ সালে সংশোধিত Chief Election Commissioner and other Election Commissioners (Conditions of Service) Act, 1991 আইন অনুসারে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারের কার্যকাল হল ছয় বছর অথবা ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত। সকলেই সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতির সমতুল্য বেতন পাবেন। নির্বাচন কমিশনের সমস্ত কাজ যথাসম্ভব সহমতের ভিত্তিতে সম্পাদন হবে যদি না হয় তাহলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে সংখ্যা গরিষ্ঠের সমর্থনের ভিত্তিতে। নির্বাচন কমিশনের বৈঠাহক মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সভাপতিত্ব করবেন। কেন্দ্রীয় আইনসভা ও রাজ্য বিধানসভা সাধারন নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করে নির্বাচন কমিশনের কাজে সহায়তা করার জন্য আঞ্চলিক কমিশনার (Regional Commissioners ) দের নিয়োগ করতে পারেন। (৩২৪ ( 8 ) নং ধারা) তবে নির্বাচন কমিশনারদের অপসারণ রাষ্ট্রপতি সরাসরি করতে পারেন না। সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণ করার পদ্ধতিতেই নির্বাচন কমিশনারদের পদচ্যুত করা যায়।

ক্ষমতা ও কার্যাবলী :-

১। ৩২৪ ( ১ ) নং ধারা অনুসারে ভোটার তালিকা তৈরি করা ও নির্বাচন পরিচালনা করা কমিশনের প্রধান কাজ।

৩২৪ (১) নং ধারা নির্বাচন কমিশনকে যে ক্ষমতা দিয়েছে তার ভিত্তিতে ভোট দেওয়ার সময় ও ভোট গণনার সময় যদি আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে, তাহলে নির্বাচন কমিশন ঐ কেন্দ্রের নির্বাচন বাতিল করে নতুন করে নির্বাচন ব্যবস্থা করতে পারে।

৩। ৩২৪ নং ধারা অনুসারে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রতীক দেয়।

৪। নির্বাচন প্রার্থীকে তার মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার সময় হলফনামার মাধ্যমে বিভিন্ন ভাগে নিজের সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ দিতে হয়— এটি গ্রহণ করা নির্বাচন কমিশনের কাজ।

৫। আইনসবার সদস্যদের অযোগ্যতা নির্ধারণের ব্যাপারে ১০৩(২) নং ধারা অনুসারে রাজ্যপাল (রাজ্য আইনসভার ক্ষেত্রে) নির্বাচন কমিশনের পরামর্শ গ্রহণ করেন।এগুলি ছাড়া নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতার পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রীমকোর্ট নিম্নলিখিত নিয়ম তৈরী করেছে। যেমন- যেখানে কোনো আইন বা উপযোগী নিয়ম নেই সেখানে নির্বাচন কমিশন – নির্বাচন পরিচালনার জন্য যেকোনো আদেশ জারি করতে পারে। যেখানে আইন বা আইনের অধীনস্থ নিয়ম আছে সেখানে কমিশন কোনো আদেশ জারি করতে পারেন। আকস্মিক কোনো অবস্থার মোকাবিলা করার জন্য যেখানে কোনও আইনি ব্যবস্থা নেই, সেখানে নির্বাচন কমিশন ৩২৪ নং ধারা প্রদত্ত পূর্ণ ক্ষমতা প্রয়োগ করে যে কোনও ব্যবস্থা নিতে পারে

 

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Discover more from

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading

Hap 2nd semester notes pdf download. Ar north america pressure washer dm developments north west. A case study of zaki flour mills).